• ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭, বুধবার
  • 03 March 2021, Wednesday
barbar-phire-ase-barbar-phire-jaay ছবি: ইন্টারনেট

বারবার ফিরে আসে, বারবার ফিরে যায়

সঙ্কর্ষণ ঘোষ

Updated On: 22 Feb 2021 08:41 am

একাধিক শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে মৃত্যুবরণে বীরগাথা সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, ইতিহাস নয়। আবেগের পরিবর্তে শুষ্ক পরিসংখ্যান রক্ষাতেই এর দায়িত্ব শেষ। অতএব জয় ও পরাজয়ের যে কোনো একটিকে নির্বাচন করতে হলে যিনি প্রথমটিকে লক্ষ্যবস্তু করবেন তিনি নিঃসন্দেহে প্রয়োগ করবেন বাস্তববোধ। 

 

পূর্বদেশীয় রণনীতি বিরুদ্ধাচারণ করলেও নিছক মহারাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির অস্তিত্বরক্ষার্থেই তো তাঁর অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজন ছিল, যেহেতু উত্তরসূরি নিতান্ত দুর্লভ। শ্রুত যে, গবেষক শ্রী গোবিন্দ পানসারে তাঁর নিন্দার্থে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেই পৈতৃক প্রাণটি হারিয়েছেন। বর্তমানে একই নামাঙ্কিত রাজনৈতিক দলটিও বহু মননে আতঙ্কের কারণ। 

 

সেই গ্রন্থের একটি পৃষ্ঠার সঙ্গেও পরিচয় না করেই বলা যায় যে সেখানে মূলত অভিযোগ তাঁর কাপুরুষতার, প্রবল বিধর্মীবিদ্বেষের। একচ্ছত্র সম্রাট নন, তিনি এক সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তমাত্র। বৈপ্লবিক ক্ষেত্রে ক্ষুরধার রণনীতির সন্ধানে প্রবৃত্ত ভারতবাসী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরণাপন্ন হয় মিস্টার আর্নেস্তো চে গেভারার। যুবসমাজের হৃদয়ে সদা বিরাজমান এই বিপ্লবী চিকিৎসককে সম্প্রতি মৌখিক আক্রমণ করা আরম্ভ হয়েছে। 

 

আশ্চর্য এইই যে উক্ত রণনীতির (গেরিলা যুদ্ধ) ভারতবর্ষীয় পুরোধা সেই পার্বত্য মুষিক’ মিস্টার গেভারার বহু পূর্বে দুর্বল করেছিলেন সুবিস্তৃত মুঘল সাম্রাজ্য। পার্থক্য কেবল এইই যে তিনি আত্মত্যাগটুকু করেননি (প্রয়োজন পড়েনি মূলত)তথাকথিত যে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে শাসকের পৃষ্ঠপোষকতা ক্রমাগত বর্ধিত করে চলেছিল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উগ্রতা, সেখানে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্য প্রয়োজন। সাম্যবাদী দর্শনও কি দুর্বৃত্তায়নকে সেই পথেই ব্যাখ্যা করেনি? অভ্যাস নয়, অস্তিত্বরক্ষাই মানুষকে সমাজবিরোধিতার প্রেরণা দেয়। 

 

পশ্চাদপসারণ যদি একান্তই গৌরবময় না হয় সেক্ষেত্রেও ভবিষ্যত যুদ্ধের শক্তিসংগ্রহের নিমিত্ত বর্তমানে পরাজয় স্বীকার যে অপরাধ নয় এই মতের প্রবক্তা স্বয়ং মিস্টার ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধিতাও তো সমান প্রেক্ষিতে সমর্থনযোগ্য। মিস্টার গেভারা বা তাঁর পূর্বসূরি লেনিন প্রমুখ ঘোষিত সাম্যবাদীদের উপস্থিতি গ্রাহ্য না হলেও এহেন যোদ্ধা তো ছিলেন যিনি ব্রিটিশশাসিত স্বদেশকে আক্রমণে উদ্যত হয়েছিলেন। গৃহবন্দিত্ব হতে পলায়ন করেছিলেন। তিনিও তবে নিশ্চিত কাপুরুষ। 

 

তাঁর কৃত সমস্ত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য কিনা, তা বিচার্য বিষয়। কেবল এটুকুই স্মর্তব্য যে তিনি যদি ধর্মান্ধ, কাপুরুষ এবং দেশদ্রোহী হন, তবে সমগ্র বিশ্বে কূটনীতি ও কুরাজনীতি সমার্থক। পৃথিবীতে সর্বত্র স্বচ্ছতা সন্ধানের পূর্বে জনৈক সাম্যবাদীর জ্ঞাতব্য যে পরিবেশ আদৌ সততারক্ষার অনুকূল কিনা? অভিভাবক শ্রী দাদোজী কোণ্ডূও তাঁকে বীর তৈরি করতে চেয়েছিলেন, বিজয়ী নয়। 

 

ইতিহাস কতখানি বিশ্বাসঘাতকতা করলে এতকাল পরে তাঁর জন্মতিথি আলোচ্য বিষয় হিসাবে উদিত হয়, উপরন্তু তাঁর সমর্থনে সাম্যবাদী দর্শনের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যাই বর্তমান পাঠকের প্রধানতর চাহিদা। ভারতবর্ষেরও কি লজ্জা হয় না যখন তথাকথিত মার্ক্সীয় সাম্যবাদীগণ নির্লজ্জ প্রক্রিয়ায় বিক্রি করতে আসে শ্রী পানসারে লিখিত পুস্তিকাটি? প্রচার করতে উদ্যত হয় দক্ষিণপন্থার কুফল... 

 

ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ তবে কী? মুঘল ভারতের রণনীতিবিদ চে’, ‘রাজনীতিবিদ লেনিন’, ‘স্বৈরাচারী মিস্টার লোসিফ যুগাশভিলিনাকি ব্রিটিশ ভারতের রাষ্ট্রদ্রোহী শ্রী সুভাষচন্দ্র বসু’? 

Recent Comments:

Leave a Comment: