• ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, শনিবার
  • 31 July 2021, Saturday
mukh-poralo ছবি: ইন্টারনেট

মুখ পোড়াল?

ওয়েব ডেস্ক প্রতিনিধি

Updated On: 13 Jan 2021 11:58 pm

সাম্প্রতিক অতীতে জনস্বার্থে নানান রায় বিষয়ে শীর্ষ আদালতের ভূমিকা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন বিচারপতি থেকে প্রবীণ আইনজীবীরাই সেই প্রশ্ন তুলেছেন। মালগাড়িতে ছিন্নভিন্ন শ্রমিকদের রক্ত মাখা রুটির ছবি দেখার পরও এই আদালত সরকারকে নির্দেশ জারি করতে শুধু অস্বীকার করেনি, শ্রমিকরা রেললাইনে উঠে গেলে আদালত কী করবে জাতীয় বোধহীন মন্তব্যও করেছে। সেই আদালত যখন দিল্লির উপান্ত থেকে কৃষকদের 'পথ অবরোধ'-এর বিরুদ্ধে রায় দিতে শুধু অস্বীকার করল না, উলটে অ্যাটর্নি জেনারেলকে র্ভৎসনা করল---- তখন অনেকেই অবিশ্বাসে ভুরু কুঁচকেছেন। একই সঙ্গে কৃষি আইন নিয়ে বর্তমান সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতাকারী কমিটি নিয়োগের প্রস্তাবও দিয়ে বসেছিল আদালত। কৃষক নেতারা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখাননি। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা নেই। তাঁরা বোধহয় শীর্ষ আদালতকে বিশ্বাস করেননি।


অবশেষে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। তিন কৃষি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করার পাশাপাশি চার সদস্যের এক কমিটিও গড়ে দিল আদালত। প্রাথমিক রায় ঘোষণার পর অতিবিশ্বাসীরা ভেবে নিয়েছিলেন, যাক এবার বুঝি কেন্দ্রকে একহাত নেওয়া গেল। অল্প সময়ের মধ্যে চার সদস্যের নাম ঘোষিত হতেই বোঝা গেল  ক্ষমতার রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যদিও, প্রধান বিচারপতি বোবড়ে রায়দান কালে বলেছিলেন, "আমরা রাজনীতির উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ করছি না।" সদস্যদের নাম ও পরিচয় প্রকাশিত হতেই কৃষক নেতারা তাঁদের মোদী সরকারের 'দালাল' ও কৃষি আইনের 'সমর্থক' হিসেবে শুধু চিহ্নিত করলেন না, এই আইনের সমর্থনে কখন কী বলেছেন তার বিস্তারিত বয়ান প্রকাশ করে দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই রায় যে মাঠে মারা গেল সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। কেন এই পদক্ষেপ করল শীর্ষ আদালত? এই বিষয়ে নানা অনুমান করা যেতে পারে বটে, কিন্তু প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নানা মুনি ইতিমধ্যেই নানা মত ব্যক্ত করেছেন। সে আলোচনায় না ঢুকেও প্রশ্ন করা যায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কৃষকবন্ধু সাজতে গিয়ে কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ বাঁচাতে গিয়ে শীর্ষ আদালত কি নিজের মুখ পোড়াল?

 

Recent Comments:

Leave a Comment: