• ১৩ মাঘ ১৪২৭, বুধবার
  • 27 January 2021, Wednesday
প্রায় চারশো! ছবি: ইন্টারনেট

প্রায় চারশো!

ওয়েব ডেস্ক প্রতিনিধি

Updated On: 25 Nov 2020 12:22 am

আত্মহত্যার সংখ্যা অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ এলাকায় আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় চারশোয় পৌঁছেছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আত্মহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কর্মহীনতাজনিত অবসাদ। আত্মঘাতী হওয়ার এই প্রবণতা গভীর উদ্বেগজনক।


রাজ্যের পরিস্থিতিটি কী তা সার্বিক ভাবে জানার উপায় নেই। সংবাদপত্রে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এমন আত্মহত্যার কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু, তা দিয়ে এই প্রবণতা কতটা গভীর তা বিচার করা যায় না। সরকারের কাছে এমন তথ্যের আশা করা দুরূহ। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো ফি বছর অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে রাজ্যে রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করে। সেখান থেকে জানা যায়, এ রাজ্যে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা শূন্য। অথচ, ব্যুরোর রিপোর্ট থেকেই জানা যায় রাজ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা কমেনি।  সন্দেহ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আত্মঘাতী কৃষকদের তথ্য কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে চেপে গেছে। ২০১৫ সাল থেকেই এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার আরও এককাঠি সরেস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নির্বিকারচিত্তে সংসদে লিখিত ভাবে জানিয়ে দেন 'তথ্য নেই' বা 'তথ্য রাখা হয়নি'। তথ্য চেপে যাওয়ার এই প্রবণতা বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের এক আত্মঘাতী প্রবণতা। করোনা পরিস্থিতিতে তা মহামারির রূপ নিয়েছে। অতীতেও লক্ষ করা গিয়েছে ঋণের দায়ে কিংবা ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষক আত্মঘাতী হলে, পারিবারিক অশান্তি কিংবা নেশাজনিত কারণ দেখিয়ে তা লঘু বা অস্বীকার করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু, তথ্য লোপাট করে দেওয়া হয়নি। এই ব্যাধি মারাত্মক। 


মহানগরে কাজ হারিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা একটি চরম সত্যকে তুলে ধরে। তা হল, কর্মহীনদের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের গাফিলতি। মহানগরে বিকল্প কাজের সংস্থান নেই বললেই চলে। ১০০ দিনের কাজে খাল বা পুকুর সংস্কার, বাঁধ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাদাবনের ম্যানগ্রোভ রোপণ, 'মাটি সৃষ্টি' প্রকল্প সবই গ্রামীণ মানুষের জন্য। এছাড়াও কৃষিকাজ রয়েছে। কিন্তু, শহরবাসী কর্মহীনদের, বিশেষ ভাবে দোকান কর্মচারী, অতিক্ষুদ্র শিল্পের কারিগর, কর্মী, শ্রমিক; যানবাহন কর্মী, পরিষেবাকর্মী, গৃহসহায়িকা, ফুটপাতের দোকানিদের এ শহরে কোনও বিকল্প আয়ের সুযোগ নেই। লকডাউনের সময় থেকেই প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন কর্মহীনদের একটি নির্দিষ্ট সময় অবধি 'ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্র‍্যান্সফার' পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্যের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় কিংবা কোনো রাজ্য সরকারই সে প্রস্তাবে কান দেয়নি। বর্তমান মন্দা পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে কর্মহীন মানুষদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করা। এই প্রবণতা যে শুধুমাত্র কলকাতা কেন্দ্রিক এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা কাজ হারানো  এখন সারা দেশেই এক গভীর সমস্যা। পাশাপাশি, কাজ হারানো মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও গভীর নজরদারি এবং তাঁদের শুশ্রূষায় দ্রুত মনোনিবেশ সময়ের দাবি।

Recent Comments:

Leave a Comment: