• ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, শুক্রবার
  • 27 November 2020, Friday
Ek Akasher Niche ছবি: কৃ্ষ্ণেন্দু মণ্ডল

এক আকাশের নীচে

শান্তনু দে

Updated On: 21 Nov 2020 11:59 pm


“তাহলে আগামী পরশু?” দেবীকার মেসেজ।

 

“হ্যাঁ, সেটাই ঠিক থাক আপাতত...”

উত্তর দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপটা বন্ধ করে ফোনটা ডেস্কের ওপর রাখল সম্যক। তারপর ইজিচেয়ারটায় হেলান দিয়ে লইয়ারের দেওয়া ডিভোর্সের ফাইনাল পেপারগুলোর দিকে আরেক বার চোখ বোলাতে শুরু করল। কোনো মামলা-মোকদ্দমা নয়, না কোনো খোরপোষের দাবি, মিউচুয়াল এই ডিভোর্সে দেবীকা আর সম্যক কেউই কোনো ঝামেলায় যেতে চায়নি। প্রেম আর বিয়ে মিলিয়ে আট বছরের সম্পর্ক সম্যক আর দেবীকার। কিন্তু অনেক উথালপাথাল দিয়ে পরিণতিপ্রাপ্ত এই সম্পর্কটা গত তিন বছরে তলানিতে এসে ঠেকেছে। সমস্যার মূল কারণ ওদের মধ্যে বহু কাঙ্ক্ষিত একটা সন্তানের অনুপস্থিতি। সবরকম মেডিক্যাল টেস্ট আর অপশন কনসাল্ট ওরা আগেই করেছে। কিন্তু ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছেন দেবীকার যা শারীরিক পরিস্থিতি, ওর পক্ষে মা হাওয়া কোনোদিনও সম্ভব নয়। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা সম্যকও মানতে পারেনি। কিন্তু দেবীকার পাশে থেকেছে। কঠিন হাতে সামলে নিয়েছে বাবা-মায়ের উদাস মুখ আর আত্মীয়স্বজনদের চাপা আলোচনা, কখনো বা অগোচরে বিদ্রুপ। প্রথম বার যখন মিসক্যারেজ হল, হাসপাতালের বেডে শুয়ে দেবীকার সেই কান্নাটা আজও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে সম্যকের। সেই সময়টায় অনেক দিন ধরে, সাইকিয়াট্রিস্টের সাহায্যও নিতে হয়েছে। তারপর অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে ওরা দুজন। দেবীকা আবার অফিস যাওয়াও শুরু করেছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য। সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ থাকলেও এর অনেকটাই সম্ভব হয়েছে সম্যকের জোড়াজুড়িতে।

 

ডিভোর্সের কাগজগুলোর দিকে তাকাতে তাকাতে এই কথাবার্তাগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল সম্যকের মাথায়।

 

“কী রে, কফি খেতে যাবি?” সতীর্থ সুদীপ্তর ডাকে চমকে উঠল সম্যক।

“হ্যাঁ, চল যাওয়া যাক”, বলে কাগজগুলো ড্রয়ারের মধ্যে রেখে সম্যক চেয়ার ছেড়ে উঠে পরলো। এই ভাবনাগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে তাড়াতাড়ি। রক্তমাংসের মানুষটাই যখন আর পাশে থাকছে না, ভাবনাগুলোয় মানুষটার মায়া বাড়িয়ে লাভ কী?

 

***

 

নিউটাউনের এই অফিস থেকে উল্টাডাঙায় বাড়ি ফেরাটা আস্তে আস্তে অসহ্য হয়ে যাচ্ছে দেবীকার। বাসে-ট্রামে যাওয়ার অভ্যেস তো সেভাবে কোনোদিনও ছিল না। আর থাকলেও অফিস ফেরত এই বাদুড়ঝোলা বাসে কোনো মেয়ের পক্ষে ওঠা সম্ভব নয়। পিক টাইমে একটার পর একটা ওলা ক্যানসেল হওয়ার পর একটা হলুদ ট্যাক্সি পেয়েছে দেবীকা। এসি নেই তাই দরদর করে ঘামছে দেবীকা। জ্যাম ভর্তি রাস্তাটা পেরোলে হয়তো কিছুটা হাওয়া দেবে। এর আগে চিরকালই সম্যকের গাড়িতে ফেরার অভ্যাস দেবীকার। বিয়ের আগে উল্টাডাঙায় পিজিতে দেবীকাকে ছেড়ে দিয়ে সম্যক সোজা চলে যেত লেকটাউনে নিজের পৈত্রিক বাড়িতে। আর বিয়ের পর তো একসঙ্গেই যাতায়াত। মাঝে বছরখানেক বিরতির পর দেবীকা আবার যখন অফিসে যাওয়া শুরু করল, সম্যক ছাড়া একেবারেই বেরোত না। সম্যক অফিস না গেলে, দেবীকাও ওয়র্ক ফ্রম হোম করত। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পলিসিটা বেশ ভালো। বাড়িতে থেকে কাজও হয়ে যায়, আবার সময়-অসময়ের মিটিংগুলো করতেও অসুবিধা হয় না। আর যেটা কোন থেকে ভালো হয়, সেটা হল কলকাতার এই ট্র্যাফিক থেকে মুক্তি। জ্যামের দিকে তাকিয়ে সেটাই মাথায় এল দেবীকার।

গাড়িটাও খুব ভালো চালায় সম্যক। স্যালারির টাকা জমিয়ে অনেক শখ করে কেনা গাড়ি। বিয়ের পর দেবীকা বলেছিল আরেকটু বড় গাড়ি কেনার কথা। অফিসের অনেকেরই সেডান ক্লাস গাড়ি। দুজনে মিলে তো ওরাও পারে। দেবীকার ঠোঁটে আঙুল চাপা দিয়ে সম্যক সেদিন বলেছিল, “উহু, ভালোবাসার জিনিস এভাবে ছাড়া যায় না। তাছাড়া বেশ তো চলছে।”

পুরোনো কথা মনে করতে করতে খটকা লাগল দেবীকার। আজ এত সহজে দেবীকার জেদের কাছে কী করে নতি স্বীকার করে নিচ্ছে তাহলে সম্যক?

হ্যাঁ, ডিভোর্সের জেদটা দেবীকারই। বিবাহিত জীবনের খুব প্রথম দিকেই জানতে পেরেছিল যে ওরা বাবা-মা হতে পারবে না। একটা মেয়ের কাছে এটা যে কত বেদনার সেটা দেবীকা বুঝেছে এই কয়েকটা বছরে। সম্যকের কাছেও জিনিসটা যে কঠিন সেটা বোঝে দেবীকা। তাই অনেক বার সামলেছে নিজেকে। ভেবেছে দুজন মিলে একসঙ্গে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেবে। অ্যাডপশনটা সম্যকের রক্ষণশীল পরিবারে কারোরই সেরকম পছন্দ নয়। বিশেষ করে সম্যকের বাবার। দেবীকাও তাই জোর করেনি কোনোদিন। সব চাওয়াই যে পাওয়া হবে এরকম সৌভাগ্য দেবীকার নয়। কিন্তু কখনো নিজের বন্ধু-বান্ধবী আবার কখনো বা আত্মীয় স্বজনদের কারো কোলে বাচ্চা দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি।

 

ইদানীং সম্যকও কীরকম নিস্পৃহ হয়ে আসছিল ওদের বিবাহিত জীবনে। মুখে কিছু না বললেও, ব্যবহারে বুঝতে পারা যাচ্ছিল যে ওদের সম্পর্কে আগের মতো মাধুর্য আর নেই। সম্যক যন্ত্রের মতো কর্তব্য পালন করে যায়। রাগ প্রকাশ করে না কিছুতেই। যেন সব কিছুই ঠিক চলছে। অথচ দেবীকা তো বোঝে, ঠিক চলছে না সবকিছু। তাছাড়া ঝগড়া রাগ হলেও বোঝা যায় সম্পর্ক থেকে এখনই আকাঙ্ক্ষাগুলো হারিয়ে যায়নি। 

সিগন্যালে দাঁড়ানো ট্যাক্সির জানালা থেকে বাইরে চোখ গেল দেবীকার। একটা স্কুটি। সামনে একটি ছেলে, আর পেছনে একটি মেয়ে, ছেলেটার কোমর জড়িয়ে বসে। মেয়েটার মুখটা ছেলেটার কাঁধের কাছে। বোধহয় কিছু বলছে। ছেলেটা হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে শোনার চেষ্টা করছে।

 

শেষের দিকে সম্যকের সঙ্গে বিশেষ কথাও হত না আর। অবশ্য সারাদিনে কর্মব্যস্ত দুটো মানুষের কথাবার্তাই বা কতটুকু হয়‌ যখন ইচ্ছেগুলো ক্লান্তির ছলনায় ভুলে থাকে। কিন্তু রাতের যে বিছানা, যেখানে দুটো মানুষের মন ও শরীরের মাঝে দূরত্বটা কমে আসার কথা, সেখানে দূরত্বটা খুব বেশি করে বোঝা যাচ্ছিল। শেষমেষ মাস তিনেক আগে লেকটাউনের শ্বশুরবাড়ি থেকে উল্টাডাঙ্গায় পুরনো পিজির মালিকেরই একটা ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে আসে দেবীকা। আর তারপর লেকটাউনের বাড়িতে ফিরে যাবার ইচ্ছেটাই চলে গেছে।

 

এই সব ভাবতে ভাবতে বাড়ির কাছে পৌঁছে গেল দেবীকা।

 

***

 

আজ সকাল থেকে মনটা আনচান করছে সম্যকের। আট বছরের ইতিহাসের শেষ দিন আজ। মাস তিনেক হল দেবীকা আর সম্যক একসঙ্গে থাকে না। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়েও সম্যক কিছু বলেনি। কেন বলেনি তার কারণ নিজেও জানে না। সেদিন মনে হয়েছিল একসঙ্গে থাকাটা একটা অভ্যাস শুধু। হয়তো একটা বিরক্তিকর অভ্যাস। গত তিন মাসে সেই অভ্যাসটার ডাক কমেনি, কীরকম যেন কামড়ে বসেছে উলটে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে ঘরে একটা ধূপের গন্ধ পেত সম্যক। বাজার থেকে জ্যাসমিন ধূপ বাছাই করে কিনে আনত দেবীকা।

গন্ধটার বোধহয় অভ্যেস হয়ে গেছে সম্যকের এখন। হয়তো অভ্যেস কিংবা হয়তো ভালোলাগা। এক ছাদের নীচে থাকা মানুষের ভালোলাগাগুলোও এরকম হয়ে যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। ধূপটাও আজকাল তাই নিজেই জ্বালায়। যদিও গন্ধটা আগের মত লাগে না আর। দেবীকার শরীরের, ভেজা চুলের একটা গন্ধ ছিল। তিন মাসের অনুপস্থিতিতে সেটা বেশি করে টের পায় সম্যক। বারান্দায় এসে দাঁড়াল সম্যক। একটু পরেই অফিস বেরোবে। বারান্দা দিয়ে নীচের রাস্তার দিকে তাকাল। টুকটাক লোকজন চলছে। এই রাস্তাটাই গিয়ে মিশেছে ভিআইপি রোডে। কিছুক্ষণ পর সম্যকও সেই ভিড়ের মধ্যে মিশে যাবে। তখন আস্তে আস্তে এই চিন্তাগুলো কমতে থাকবে। ভিড়ের এই একটা গুণ আছে, চিন্তাগুলো বেশ হারিয়ে যেতে পারে ভিড়ে। 

 

একটা এসএমএস ঢুকল সম্যকের ফোনে। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখলো দেবীকার মেসেজ, “অফিস ফেরত আমাকে তুলে নিতে পারবে? আমি লইয়ার এর অফিসটা‌ ঠিক চিনি না।”

“ঠিক আছে”, দেবীকার মেসেজের উত্তর দিয়ে মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে নিল সম্যক। আজ শেষ দিন তাই কিছুতেই না করবে না।

 

জামশেদপুরের মেয়ে দেবীকা। চাকরি পেয়েই কলকাতায় আসে। আর কলকাতায় একই অফিস পাড়ায় কমন বন্ধুর সূত্রে আলাপ হয় সম্যক আর দেবীকার। আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম, তারপর বিয়ে। বিয়েতে অবশ্য দেবীকার বাবা-মায়ের প্রথম দিকে আপত্তি ছিল, বিশেষ করে দেবীকার বাবার। সম্যক অব্রাহ্মণ বাঙালি ছেলে। দেবীকারা অবাঙালি তায় ব্রাহ্মণ। শেষে একমাত্র মেয়ের জোড়াজুড়িতে মেনেই নেন দেবীকার বাবা, কর্পোরেট অফিসের উচ্চপদস্থ কর্তা শশীমোহন শুক্লা। দেবীকা বিয়ের পর অবশ্য দুটো পদবিই ব্যবহার করত... দেবীকা শুক্লা রায়। দেবীকার বাবা-মা এখনও জামশেদপুরেই থাকেন। মেয়ের এই বিবাহবিচ্ছেদে ওঁদের কি মত জানার ইচ্ছে থাকলেও দেবীকাকে আর জিজ্ঞেস করেনি সম্যক। দেবীকার মা অবশ্য একদিন ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, “আমার মেয়ে তো চিরকালই একগুঁয়ে। তোমাদের বিয়ের সময়েও জোর করল, এখন জোর করে ডিভোর্স করতে চাইছে। তোমারও কি এই ডিভোর্সে সায় আছে সম্যক?”

সম্যক বলেছিল, “আপনার মেয়ের কোনো কথা তো আমি ফেলি না। ওর যদি আমার সঙ্গে থাকতে ভালো নাই লাগে আমি তো জোর করে আটকে রাখতে পারি না। তাছাড়া নিজের ভালোমন্দ বোঝার বোধ ওর আছে মা।”

“ও জামশেদপুরেও ফিরতে চাইছে না সম্যক। কলকাতায় একা কী করে পারবে?” শাশুড়ি-মার এই শেষ প্রশ্নটার কোনো উত্তর দেয়নি সম্যক।

সম্যকের সঙ্গে এত বছর থেকে বাংলাটা সরগর হয়ে গেলেও কলকাতার রাস্তাঘাটে এখনও সেভাবে সাবলীল নয় দেবীকা। 

এরপর তো একা একাই সব কিছু করতে হবে দেবীকাকে। সব কিছু পারবে তো একা? ভাবতে ভাবতে স্নানঘরে ঢুকল সম্যক।

 

***

 

অফিস শেষে আজ সম্যক এবং দেবীকা অফিসপাড়া সংলগ্ন এই ক্যাফেটায় এসেছে। অফিস ফেরত সম্যকই তুলে নিয়েছে দেবীকাকে। একটা পার্কের ভেতর এই ওয়াটার সাইড ক্যাফে। এককালে দেবীকা আর সম্যকের খুব পছন্দের জায়গা ছিল এটা। কিন্তু বিগত বেশ কিছু বছর আসা হয়নি এদিকে। আসে পাশের টেবিলে কিছু কমবয়সি অফিসের ছেলে মেয়ে বসে।

সময় বদলায়, শরীরের চামড়া কুঁচকে যায়, বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে মনের জড়তা। কম বয়সের ভালোলাগা, পছন্দগুলো প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের চলার পথ থেকে ছিটকে যেতে থাকে। জীবনে বেশি কিছু পাওয়ার প্রতিযোগিতাটাই বোধহয় ছলনা। 

সম্যক আর দেবীকার মিউচুয়াল ডিভোর্স। কাগজগুলোতে সই করতে বেশি সময় লাগল না। এরপর কাগজগুলো লইয়ারের অফিসে পৌঁছে দিলেই কাজ শেষ। অর্ডার দেওয়া কফিটাও পড়েই রইল টেবিলে। 

“আমি না গেলেও তো হবে, তাই না?” দেবীকা জিজ্ঞেস করল।

“হ্যাঁ, পেপারস পৌঁছে গেলেই হবে”, সম্যক উত্তর দিল।

“তাহলে তুমি পৌঁছে দিও, এমনিতেও এসব আইনি জটিলতা আমি বিশেষ বুঝি না”, বলে অ্যাপ ক্যাব বুক করার জন্য ফোনটা ওপেন করল দেবীকা।

“আমিই বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি”, দেবীকাকে ক্যাব বুক করতে দেখে সম্যক বললো।

“তুমি আবার ওদিকে কষ্ট করে কেন যাবে?”

 

“কীসের আর কষ্ট, গাড়িই তো চালাব। আর বাড়ির ছাদটা পাকাপাকি ভাবে চেঞ্জ হচ্ছে শুধু দেবীকা, আমরা থাকব তো এক আকাশের নীচেই।”

 

বিল মিটিয়ে গাড়িতে উঠে বসল দুজন।

সম্যক গাড়ি স্টার্ট দিতে দুজনে ছুটে চলল নিউটাউন এর ফাঁকা রাস্তা দিয়ে। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ছোট্ট শো পিসটার দিকে চোখ পড়ল দেবীকার। অনেক দিন পর খেয়াল হল এটার কথা। দেবীকারই দেওয়া গিফট, বিয়ের আগের। কোনো অকেশনে নয়। এমনিই সময়ে-অসময়ে টুকটাক জিনিস কিনত সম্যকের জন্য দেবীকা।

 

ড্যাশবোর্ড থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে জানালার কাচের বাইরে তাকাল দেবীকা। দূরে জ্বলজ্বল করছে আধুনিক কলকাতার হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো। ফোর লেনের ফাঁকা রাস্তায় জ্বলছে নিয়ন আলো। খুব দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে একের পর এক নির্মীয়মান মেট্রোর স্তম্ভগুলো।

 

“গাড়িটা দাঁড় করাবে একবার প্লিজ?”

“এখানে?”

“হ্যাঁ, এখানেই।”

সম্যক সাইড করে গাড়ি দাঁড় করাতে দেবীকা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারে গিয়ে দাঁড়ালো। সম্যক আস্তে আস্তে পাশে গিয়ে দাঁড়াল। দুরন্ত বেগে বেড়ে ওঠা এই শহরের এক প্রান্তে পাশাপাশি, দুরন্ত গতিতে শেষ হতে থাকা একটা সম্পর্কের কিনারায় দাঁড়ানো দুটি মানুষ, দেবীকা আর সম্যক। রাস্তার হলুদ আলোয় সম্যক খেয়াল করল, দেবীকার চোখের কোনায় জল। আরেকটু পাশ ঘেঁষে দাঁড়াল সম্যক। দেবীকার হাত একটু উঠে এসে আঙুলগুলো ছুঁয়ে উঠল সম্যকের আঙুল।

Share via Whatsapp

Recent Comments:

Leave a Comment: