• ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, শনিবার
  • 31 July 2021, Saturday
অবিলম্বে ৪জি, ৫জি চালু করে BSNLকে বাঁচাবার দাবিতে যৌথ কনভেনশন

অবিলম্বে ৪জি, ৫জি চালু করে BSNLকে বাঁচাবার দাবিতে যৌথ কনভেনশন

ওয়েব ডেস্ক প্রতিনিধি

Updated On: 21 Jul 2021 01:49 am

অবিলম্বে চালু করতে হবে ফোর জি, তারপর ফাইভ জি পরিষেবাও। প্রতি মাসের শেষ দিনে দিতে হবে বেতন। রক্ষা করতে হবে চুক্তি শ্রমিকদের স্বার্থও। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল’র সম্পদ বিক্রি করা যাবে না। যৌথ আন্দোলনের প্রস্তুতিতে এই দাবি তুলল সংস্থার স্থায়ী, অস্থায়ী এবং অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন। 



বেসরকারি টেলিকম সংস্থার মুনাফার স্বার্থে রুগ্‌ণ করা যাবে না বিএসএনএল’কে। মঙ্গলবার কলকাতার সিটিও দপ্তরে যৌথ কনভেনশন থেকে ফের উঠল এই দাবি। বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, বিএসএনএল ক্যাজুয়াল মজদুর ইউনিয়ন এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া বিএসএনএল অ্যান্ড ডট পেনসনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ কনভেনশন থেকে গঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের কো-অর্ডিনেশন কমিটি। 



‘অল ইউনিয়ন্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব বিএসএনএল’র আহ্বানে আগামী ২৮ জুলাই দেশের প্রতিটি শাখার সঙ্গে এরাজ্যেও ভুখ হরতালে শামিল হবেন বিএসএনএল’র এই তিনটি সংগঠনের কর্মীরা। 




২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর কেন্দ্র সরকার ঘটা করে বিএসএনএল’র পুনরুজ্জীবনের ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্র। সংস্থার ৭৯ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে স্বেচ্ছাবসর নিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা বাকি অংশ প্রয়োগের বেলায় হাত গুটিয়ে বসে কেন্দ্র। পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ার অন্যতম শর্ত ছিল বিএসএনএল’র ফোর-জি পরিষেবা চালু। বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির ফোর-জি পরিষেবা চার বছর আগে চালু হলেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার আটকে রেখেছে বিএসএনএল’কে ওই পরিষেবা দেওয়ার কাজ। এদিনের কনভেনশনের আহ্বান অবিলম্বে ফোর জি পরিষেবা এবং পর্যায়ক্রমে দিতে হবে ফাইভ জি পরিষেবা। 




কেন্দ্রের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রকের কাছে দাবি, বিএসএনএল’র বকেয়া ৩৯ হাজার কোটি দিতে হবে। বিএসএনএল’র টাওয়ার ও অপটিকাল ফাইবারকে বেসরকারি টেলিকম সংস্থার স্বার্থে বেসরকারিকরণ করা যাবে না। জমি-বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। বিক্রির কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিপাম’কে। বিএসএনএল’র প্রায় ৬৫ হাজার টাওয়ার এবং সাড়ে সাত লক্ষ রুট কিলোমিটার কেবল, যা বিএসএনএল বেঁচে থাকার রসদ, বিক্রির চেষ্টা করছে। এদিনের কনভেনশনের আহ্বান, রুখতে হবে বিএসএনএল’র সম্পত্তির লুটতরাজ। 


 

একই সঙ্গে এই সময়ে চলছে বিএসএনএল’এ ঢালাও আউটসোর্সিং। কুড়ি বছর ধরে বিএসএনএল’র গ্রাহক পরিষেবাকে মজবুত করার ক্ষেত্রে স্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গেই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হয়েও বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ বেসরকারি টেলিকম সংস্থার উদাহরণ হাজির করে আউটসোর্সিং-এর নামে ছেঁটে ফেলতে চাইছে সংস্থার সিংহভাগ চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের। কর্মীরা বলছেন, আউটসোর্সিং করে অন্য সংস্থাকে দিয়ে কাজ করানোর ফল ইতিমধ্যেই টের পেয়েছে বিএসএনএল। পরিষেবা শ্লথ হওয়ার কারণে দেশজুড়েই একের পর এক সার্কেলে কমতে শুরু করেছে ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল গ্রাহক। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের ছেঁটে ফেললে পরিষেবার কাজ আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে হলে আরও রুগ্‌ণ হবে সংস্থা, বারে বারেই স্পষ্ট জানিয়েছে বিএসএনএল’র একমাত্র স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়ন বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন।



কোনওভাবেই বিএসএনএল’কে বেসরকারি মডেলে পরিচালিত করা যাবে না, বেসরকারিকরণের নিদান অনুযায়ী আউটসোর্সিং করা যাবে না, ছাঁটাই করা যাবে না একজনও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে। দাবি করা হয়েছে যৌথ কনভেনশনে। 



এদিনের কনভেনশনের শুরুতে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন ‘এআইবিডিপিএ’র রাজ্য সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, ডাক কর্মচারী আন্দোলনের সদ্য প্রয়াত নেতা কমরেড শিবদাস ব্যানার্জির ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় কনভেনশনের কাজ। কনভেনশন পরিচালনা করে সুশান্ত ঘোষ, বনানী চট্টোপাধ্যায় এবং নরেশ নওরোজ। কনভেনশনের রিপোর্ট পেশ করেন পীযূষ চক্রবর্তী, রিপোর্টের উপর তিনটি সংগঠনের পক্ষে আলোচনা করেন সুশান্ত ঘোষ, গোবিন্দ দাস ও অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়। এদিনের কনভেনশন থেকে গঠিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন অনিমেষ মিত্র, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাপস ঘোষ ও পীযূষ চক্রবর্তী। কনভেনশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু। কনভেনশন থেকে ডিওয়াইএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্রের হাতে রেড ভলান্টিয়ার তহবিলে পনেরো হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। 
















সূত্র  গণশক্তি 

Recent Comments:

Leave a Comment: