• ৩০ বৈশাখ ১৪২৮, শুক্রবার
  • 14 May 2021, Friday
ভারতে চিকিৎসা অমিল, আমেরিকানদের ফিরে আসতে বললো মার্কিন প্রশাসন ছবি ইন্টারনেট

ভারতে চিকিৎসা অমিল, আমেরিকানদের ফিরে আসতে বললো মার্কিন প্রশাসন

ওয়েব ডেস্ক প্রতিনিধি

Updated On: 02 May 2021 01:19 am

মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ভারত ছেড়ে চলে আসার পরামর্শ দিল ওয়াশিংটন। আপাতত ভারত সফরে না যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের সতর্কবার্তায় ভারতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের শোচনীয় হাল ব্যাখ্যা করে নাগরিকদের জানানো হয়েছে, ‘‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগটুকুও মিলছে না সেখানে। শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, হাসপাতালে বেডেরও অভাব।’’ ভারতের কয়েকটি শহরের হাসপাতালে ‘‘জায়গার অভাবে অসুস্থ মার্কিনীদের ভর্তি করা হয়নি’’ বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। এদিকে বিপন্নতার সময়ে ৪০টিরও বেশি দেশ ভারতকে সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবারই অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ভেন্টিলেটর এবং ওষুধপত্র সহ ২০টন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রাশিয়ার দু’টি বিমান দিল্লি এসে পৌঁছেছে। ভারতের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বদেশের নাগরিকদের জন্য টুইটারে ‘লেভেল ৪’ পর্যটন নির্দেশিকা জারি করেছে মার্কিন বিদেশ দপ্তর। এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের হুঁশিয়ারি নির্দেশিকা। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতে করোনা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সুরক্ষার স্বার্থেই এই মুহূর্তে ভারতকে এড়িয়ে চলতে হবে। এখন কেউই ভারত সফরে যাবেন না। ভারতে যেসব মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, তাঁদেরও শিগগির ফিরে আসা উচিত। এমনকি ভারতে বিভিন্ন মার্কিন মিশনে কর্মরত সরকারি আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যরাও চাইলে বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসতে পারেন। সরাসরি আমেরিকা অথবা ভায়া প্যারিস অথবা ফ্রাঙ্কফুর্ট দৈনিক বিমান চালু রয়েছে। প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের পাশাপাশি চেন্নাই, হায়দরাবাদ, কলকাতা এবং মুম্বাইয়ে কনস্যুলেট জেনারেল দপ্তর রয়েছে আমেরিকার। জরুরি পরিষেবা দেওয়ার জন্য সেগুলি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিদেশ দপ্তর। নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের তরফে এক বিবৃতিতেও কোভিড মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে ভারতের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বেহাল দশা সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিলেও ভারত সফর সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করেছিল মার্কিন প্রশাসন। এদিকে নয়াদিল্লির খবর, বিপন্নতার এই সময়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে বহু দেশ। বৃহস্পতিবারই ২০টন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রাশিয়ার দু’টি সরকারি বিমান দিল্লি এসে পৌঁছেছে। ভারতে এই মুহূর্তের অগ্রাধিকারের কথা ভেবে মূলত অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ভেন্টিলেটর এবং ওষুধপত্র পাঠিয়েছে রাশিয়া। মে মাস থেকেই করোনা টিকা ‘স্পুটনিক-ভি’ নিয়ে রুশ বিমান ভারতে আসতে শুরু করবে বলে এদিন নয়াদিল্লিতে জানিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাই কুদাশেভ। প্রতিবেশী বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এদিন জানানো হয়েছে, কোভিড মোকাবিলার লড়াইয়ের জন্য ভারতে জরুরি ওষুধপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাতে চায় ঢাকা। এই মুহূর্তে ১০হাজার ভায়াল অ্যান্টি-ভাইরাল ইঞ্জেকশন, অ্যান্টি-ভাইরাল ট্যাবলেট, ৩০হাজার পিপিই কিট ছাড়াও জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি’র মতো আরও বহু জরুরি ওষুধ ভারতের জন্য প্রস্তুত রেখেছে বাংলাদেশ। ভারতের এই ‘‘নজিরবিহীন’’ পরিস্থিতিতে বিদেশি সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সাহায্যকারী দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বৃহস্পতিবার বলেন, এপর্যন্ত ৪০টিরও বেশি দেশ সহায়তার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। শুক্রবার এবং তার পরের কয়েক দিনে মার্কিন সহায়তা নিয়ে তিনটি বিশেষ বিমান দিল্লি এসে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভেন্টিলেটর এবং ফ্যাভিপিরাভির ওষুধ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই আসছে সৌদি আরবের বিমান। ৭০০কনসেন্ট্রেটর আসছে আয়ারল্যান্ড থেকে। শনিবার আসবে ফ্রান্সের বিমান। ৪০টিরও বেশি দেশ সহায়তা পাঠাচ্ছে। কেবল উন্নত দেশগুলিই নয়, আমাদের প্রতিবেশী মরিশাস, বাংলাদেশ, ভূটানও সাহায্য পাঠাচ্ছে।’’ ডবলিউএফটিইউ’র আবেদন: কেবল মৌখিক সংহতি নয়, ভারতে কোভিড মোকাবিলার কার্যকরী সাহায্য পাঠানোর আবেদন জানালো ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (ডবলিউএফটিইউ)। বৃহস্পতিবার এথেন্স থেকে প্রচারিত এক বার্তায় রাষ্ট্রসঙ্ঘ, হু, ফাও, ইউনেস্কো, আইএলও’র মতো বিশ্ব-সংস্থাগুলির উদ্দেশে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা বলেছে, শুধু শুকনো সংহতি প্রকাশে ভারতবাসীর কোনও সুবিধা হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনারা অবিলম্বে ভারতে অক্সিকেন, মাস্ক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, হাসপাতাল সহায়তা, করোনা টিকা পাঠান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সুসংহত সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থার এক মুখপাত্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুয়েত্রেসের উপ মুখপাত্র ফারহান হক জানান, ‘‘দরকার পড়লে আমাদের সুসংহত সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ভারত জানিয়েছে, তার দরকার নেই। কারণ, ভারতের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট শক্তপোক্ত। তবে আমাদের প্রস্তাব বহাল রয়েছে। চাইলেই সহায়তা পাবে ভারত।’’












অনুদিত 


কৃতজ্ঞতা      গণশক্তি

Recent Comments:

Leave a Comment: