• ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, শনিবার
  • 31 July 2021, Saturday
অনন্তের আহ্বান ছবি: ইন্টারনেট

অনন্তের আহ্বান

গৌরব বিশ্বাস

Updated On: 12 Jun 2021 11:59 pm

তেতাল্লিশ পর্ব

 

সেকালের সাহিত্যিকদের মধ্যে যারা প্রেতচক্রে উৎসাহিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শিশু সাহিত্যিক সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সৌরীন্দ্রমোহনকে তাঁর জীবনের এক আশ্চর্য ঘটনা শুনিয়েছিলেন।

অবনীন্দ্রনাথ তখন মাঝে মধ্যেই কলিকের ব্যাথায় অত্যন্ত কষ্ট পান। হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি কবিরাজি সুরাহা হয়নি কোনো কিছুতেই। এক রাতে কলিকের ব্যথা খুব বাড়ল। সে ব্যাথায় প্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন অবন ঠাকুর। আছন্ন অবস্থায় তিনি তাঁর পরলোকগত মায়ের নাম করছিলেন। হঠাৎ মনে হল, তাঁর পরলোকগত মা তাঁর নাম ধরে ডাকছে। একটু চোখ মেললেন অবন ঠাকুর। দেখতে পেলেন তাঁর মায়ের স্নেহভরা মূর্তি। অবন ঠাকুর জোর দিয়ে বলেছেন এ তাঁর চোখের ভুল নয়। মা হাত বুলিয়ে দিলেন তাঁর গায়ে। আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়লেন অবন ঠাকুর। ভোরবেলা যখন ঘুম ভাঙল অবনীন্দ্রনাথের, শরীর বেশ ঝরঝরে। ব্যথা নেই। বরং বেশ খিদে হয়েছে। সেই থেকে আর কোনোদিন কলিকের ব্যাথায় কষ্ট পাননি অবনীন্দ্রনাথ।

বারিদবরণ ঘোষ লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় আর সমরেশ বসুর অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় কিন্তু ভূতে ভয় পেতেন বেশ। একথা তিনি স্বীকার করেছেন নিজ মুখে। কবির বাড়িতে একটা মেয়ে কাজ করত। সে মেয়েটি একদিন হঠাৎই মারা যায়। মেয়েটি মারা যাওয়ার পর কবি নিজের বাড়িতে প্রায়শই অনুভব করতে থাকেন মেয়েটির উপস্থিতি। মেয়েটি যে ঘরে শুত, এক রাতে কবি শুয়েছিলেন সে ঘরে। হঠাৎই ঘরের সব আলো আপনা-আপনি জ্বলে উঠল। কবির মনে হতে লাগল, ঘরে তিনি ছাড়াও অন্য কেউ আছে। কবির স্ত্রী এসে আলো নিভিয়ে দিলেন। আবার তিনি চলে যেতেই আপনা থেকেই জ্বলে উঠল সব আলো, ঘুরতে শুরু করল সিলিং ফ্যান।


সাহিত্যিক সমরেশ বসু সেবার পূজোর লেখা সেরে সপ্তাহখানেকের জন্য ঘুরতে গেছেন দীঘায়। সমুদ্রের ধারেই সস্তায় এক পান্থশালা পেয়েছেন। ডাবল বেডের রুম। পাশের খাটটি ফাঁকা। লেখক একাই থাকবেন ঘরে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে খাওয়াদাওয়ার পর রাতে নিজের বিছানায় শুতেই মনে হয় পাশের খালি খাটটিতেও কেউ যেন শুয়ে। লেখক পাশ ফিরলে পাশের খাটটিতেও অদৃশ্য কেউ পাশ ফিরছে। এই গা ছমছমে ব্যাপার প্রায় প্রতি রাতেই হয়। তারপর একদিন লেখক চেপে ধরেন হোটেল মালিককে। হোটেলের মালিক বলেন, ওই খাটে আগে যিনি শুতেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন এবং জানা যায় সেই ব্যক্তিটি সমরেশবাবুর অন্তরঙ্গ এক বন্ধু।


দিনকয়েক আগে জিম করবেটের উপর একটু লেখালেখি করতেই ওঁর শিকার কাহিনিগুলো নতুন করে পড়ছিলাম আবার। তখনই কয়েক জায়গায় লক্ষ্য করলাম, শিকার কাহিনির মধ্যেই উনি এমন কিছু লিখেছেন, যেগুলো স্বাভাবিক বুদ্ধিতে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সেসব ঘটনা যে ভৌতিক, এমন কিছু স্পষ্ট করে বলেননি করবেট। অথচ তাঁর লেখার ভাবটি যেন সে দিকেই ইঙ্গিত করে। অধুনা উত্তরাখন্ডের চম্পাওয়াতের কুখ্যাত মানুষখেকো বাঘটিকে করবেট সাহেব যেবারে হত্যা করেন, তখন দু’ রাত তিনি কাটিয়েছিলেন, চম্পাওয়াতের এক পুরনো বন বাংলোতে। চম্পাওয়াতের এই বাঘ শিকার কাহিনি লিখতে গিয়ে কাহিনি মধ্যেই ছোট্ট এক লাইনে তিনি যা উল্লেখ করলেন তা বেশ ভাববার মতো, “I have a tale to tell of that bunglow but I will not tell it here, for this book of jungle stories, and tales ‘beyond the laws of nature’ do not consort well with such stories”. ‘beyond the laws of nature’ এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে করবেট কি বোঝাতে চাইলেন?

 

 

Recent Comments:

Leave a Comment: