• ৩০ বৈশাখ ১৪২৮, শুক্রবার
  • 14 May 2021, Friday
খাইবার পাস ছবি: ইন্টারনেট

খাইবার পাস

সুরঞ্জিতা আচার্য

Updated On: 29 Aug 2020 01:52 pm

প্রাদেশিক স্পেশাল

পর্ব: ২


এমন বরষা আসিল সহসার দিনে জম্পেশ করে আলু, পেঁয়াজ, গাজর, ফুলকপি, কাজু মিশিয়ে বেশ করে ঘি-গরম মশলা ছড়িয়ে এক বাটি গরম গরম হলুদ সুগন্ধী চিড়ে আর এক কাপ চা নিয়ে বসে ইনস্টাতে পোস্ট করার সময় যদি ক্যাপশন দেন হ্যাশট্যাগ পোহা, তাহলে জেনে রাখুন গোটা মারাঠাকুল কিন্তু আপনাকে ছেড়ে কতা কইবে না---- এই বলে দিলুম

     এখন প্রশ্ন হল তাহলে যাহাই চিড়ের পোলাও তাহাই কি পোহা নয়? আজ্ঞে না মশাই, যাহা কান তাহা ধান কি! তবে ফারাক কোথায়? প্রথমত, পোহাতে গরম মশলা, ঘি, কাজু, গাজর, ফুলকপি এসব কিছুই লাগে নাদ্বিতীয়ত, পোহা বানানোয় এত হ্যাপার দরকার নেই আর যথেষ্ট হেলদি তাই যারা তেল-মশলা কম দিয়ে সুস্বাদু খাবার খেতে পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য পারফেক্টতৃতীয়ত, এটি খেতে আদৌ মিষ্টি মিষ্টি নয় বরং হালকা টক, নোনতা ও মিষ্টি---- সব মিলিয়ে বেশ একটা বিবিধের মাঝে মিলন মহান ব্যাপার স্যাপারকী বুইলেন? আচ্ছা থাক, বরং বানানোর পরে নিজে নিজেই বুঝে যাবেনআসলে প্রবাসী বাঙালিরা হলুদ চিড়েতে ফুলকপি, গাজর দেখলেই কেমন চোখ কপালে তুলে শুধোন---- এ কী! পোহাতে ফুলকপি!! নিত্যদিন পোহা দেখা চোখ হঠাৎ ফুলকপি, গাজর দেখলে একটু তো চুলকোবেই, তাই না!

গোটা ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়াতে যদি সকাল সকাল জলখাবারের খোঁজে বাইরে খানাতল্লাশি করতে বেরোন তাহলে দেখবেন রাস্তার পাশে ঠেলা নিয়ে কাগজের প্লেটে করে হালকা হলুদ রঙের সুন্দর ঝুরঝুরে পোহা, যার ফাঁকফোকরে চিনেবাদাম উঁকিঝুকি দিচ্ছে আর পোহার ওপরে নাইলন সেউয়ের পাতলা পরত ছড়ানো সঙ্গে বেশ ঝোলা ঝোলা মটর ঘুগনি বিক্রি হচ্ছেসে ঘুগনিতে অবশ্য মটর কম, ঝোল বেশিদেখতে পাবেন কেমন সুন্দর সকাল সকাল দোকানের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জনতা, পোহা ঘুগনি খেয়ে কাগজের কাপে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে দিন শুরু করছেন


মুম্বইয়ের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের তালিকায় একটি হল এই পোহাশুধু মহারাষ্ট্র বা গুজরাট বলে নয় এখন গোটা ইন্ডিয়াতেই মোটামুটি প্রসিদ্ধ এই জলখাবারউপাদেয় তো বটেই, তাছাড়া রোজকারের ব্যস্ত জীবনে এক পেট খেয়ে দৌড়ঝাঁপ পোষায় না, পোহাতে পেটও ভরে আবার শরীর হালকাও থাকেতবে এ প্রসঙ্গে বলি, মারাঠিরা পোহাতে চিনি খুব কম দেয়, ওরা একটু স্পাইসি পোহা বানায় আর গুজরাটিরা তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি চিনি দেয় যাতে টক, মিষ্টি ও নোনতা স্বাদটুকু সমান সমান ব্যালান্স হয়মূল উপাদান সেই চিড়ে তবে কখনো তা কান্দা পোহা (মারাঠিতে কান্দা মানে পেঁয়াজ) রূপে আর কখনো বটাটা পোহা (বটাটা মানে আলু) নামে খ্যাতপোহাকে মূলত ব্রেকফাস্ট হিসেবেই খাওয়া হয়, ঝটপট তৈরি হয়ে যায়, উপকরণ কম লাগে তাই ঝামেলাও কমতাছাড়া শুকনো খাবার তাই দিব্যি ক্যারি করা যায়এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, নমকিন পোহা বা পোহা চিউড়া কিন্তু আলাদাপোহা হল নোনতা খেতে ভিজিয়ে রাখা ঝুরঝুরে চিড়ে দিয়ে বানানো একটা ডিশ যা খাওয়া হয় জলখাবার হিসেবে। কিন্তু চিউড়া (chivda) হল ড্রাই স্ন্যাকস যা তৈরি হয় ভাজা চিড়ে দিয়ে কিন্তু তাতে থাকে নারকেলের স্লাইস, চিনেবাদাম, ড্রাই ফ্রুটস আর স্পাইসেসএটি মূলত চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়

     তাহলে আসুন আজকের মারাঠি হিরোর সঙ্গে আলাপ-পরিচয়টা সেরে ফেলা যাকআজকের হিরোর নাম: Maharashtrian Style Kanda Poha.

 

উপকরণ:

মোটা চিড়ে/পোহা: ২ কাপ (দুজনের জন্য যথেষ্ট)

আলু: একটা মাঝারি সাইজের, খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে ছোট ছোট চৌকো করে কাটা

পেঁয়াজ: একটা মাঝারি সাইজের, মিহি করে কুচি করা

চিনেবাদাম: ২ চামচ মতো

কাঁচা লঙ্কা: ২টো, কুচি করে রাখা

কারিপাতা: গোটা ছয়েক

ধনেপাতা কুচি

গোটা সাদা জিরে ও সরষে: ১/২ চামচ সব মিলিয়ে (ফোড়নের জন্য)

হিং: এক চুটকি

১০সাদা তেল: ২-৩ চা চামচ

১১পাতিলেবু: ১টা বড়

১২নুন: স্বাদমতো

১৩হলুদগুঁড়ো: ১/৫ চামচ

 

প্রণালী:

একটা বাটিতে চিড়ে নিয়ে জল দিয়ে দু-তিন বার ভালো করে ধুয়ে নিনহালকা হাতে ধোবেন যাতে ময়লা জলটুকু বেরোনোর পর চিড়েগুলো গলে না যায়যদিও মোটা চিড়ে গলে না, তবুও বলে রাখলামএবার জল ঝরানো চিড়েটা আলাদা করে রেখে দিনমিনিট পাঁচেক পরেই দেখবেন সুন্দর ঝুরঝুরে হয়ে গেছেএবার অল্প নুন ও চিনি ছড়িয়ে হালকা হাতে মিশিয়ে দিন

     অন্য দিকে কড়াই গরম হলে সাদা তেল দিনআপনি ইচ্ছে করলে রোজকার রান্না করার কড়াই ব্যবহার করতে পারেন বা ননস্টিক, যা মর্জি

তেল গরম হলে সাদা জিরে, হিং ও সরষে ফোড়ন দিনসরষে ফাটতে শুরু করলে চিনেবাদাম ও আলু দিনফুল আঁচে অল্প নেড়েচেড়ে আঁচ কমিয়ে এবার ঢাকা দিয়ে দিনচিনেবাদাম ও আলু দুটো একসঙ্গে ভাজা হয়ে যাবেমাঝে নেড়ে দেখে নেবেন আলুগুলো সেদ্ধ হয়ে লালচে ভাজা হল কিনাএবার পেঁয়াজকুচি, কারিপাতা ও কাঁচা লঙ্কা মেশানএকটু ভাজা হলে মানে পেঁয়াজ ট্রান্সলুসেন্ট হলে নুন ও হলুদ দিননুন-হলুদ মিশিয়ে নাড়াচাড়া করে জল ঝরানো ঝুরঝুরে চিড়েটা দিয়ে হালকা হাতে মেশাতে থাকুন সব মশলার সঙ্গেসব কিছু সুন্দর ভাবে মিশে গেলেই আঁচ বন্ধ করে লেবুর রস ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে আবারও হালকা হাতে একটু নেড়েচেড়ে দিননুন, মিষ্টি, লেবুর টক সব যেন সমান ভাবে ব্যালান্স হয় সেটা দেখে নেবেনমোটেই মিষ্টি মিষ্টি খেতে হবে না তা আগেই বলেছি

     এবার উপরে নাইলন (একদম মিহি যেটা) সেউ ভুজিয়া ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুনতারপর খাওয়া শেষে এক কাপ চা... আহা!

 

এতক্ষণে বোধকরি বেশ কিছুটা বোঝাতে পারলামমিষ্টি চিড়ের পোলাওয়ের পাশাপাশি নোনতা পোহা খেয়ে দেখুন, ভালোই লাগবে আশা করিটিপস হিসেবে আবারও বলব মোটা চিড়ে ব্যবহার করুন, প্যাকেটের চিড়েইমুদির দোকানে অতি সহজেই পাবেন, তবে লাল লাল দেখতে দেশি চিড়ে নয় কিন্তুঅনেকে আবার পোহাকে ফিউশন রূপ দিতে ভেজানো চিঁড়ের সঙ্গে দই ও সুজি মিশিয়ে খানিকক্ষণ রেখে তাতে কুচি করা পেঁয়াজ, টমেটো, সিমলা মির্চ, নুন, হলুদ-লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা পাউডার মিশিয়ে ভালো করে চটকে একটা ব্যাটার বানায়তারপর ননস্টিক প্যানে সাদা তেল দিয়ে এক হাতা করে ব্যাটার দিয়ে প্যানকেকের মতো গোল করে বানিয়ে দু’ দিক ভালো করে ভেজে নিলেই তৈরিঅনেকে এটাও ট্রাই করতে পারেন, তবে এটি পোহা নয়সঙ্গে পোহার ছবি রইল আপনাদের সুবিধার্থেব্যস! আর দেরি না করে বানিয়ে ফেলুনআজকের পর্বে এখানেই ইতি টানলাম, ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

তব তক খাতে রহিয়ে, খিলাতে রহিয়ে

 

 

 

Recent Comments:

Leave a Comment:

সম্পর্কিত খবর