• ১২ কার্তিক ১৪২৭, বুধবার
  • 28 October 2020, Wednesday
মিলিয়ে নেবেন

মিলিয়ে নেবেন

ওয়েব ডেস্ক প্রতিনিধি

Updated On: 17 Oct 2020 12:02 am

দুর্ভিক্ষের সময় বাবু-বিবিদের বাড়িতে পুজো হত না? 

সেবার তো কলেরায় কত লোক মারা গেল, তা বলে কি পুজো হয়নি, মন্বন্তরেও কি জমিদার বাড়িতে ষষ্ঠীর দিন ফানুস ওড়েনি, না কি নীলকণ্ঠ পাখিকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি? হয়েছে তো।

তবে করোনার সময় কেন পুজো পুজো গন্ধ উঠবে না? 


আগে জমিদার বাড়ির পুজোতে জৌলুস ছিল, প্রদর্শনী ছিল, কলাবউয়ের স্নান থেকে আসছে বছর আবার হবে-র মাঝখানে ছিল ভিন রাজ্যের বাঈজী নাচ, সন্ধিপুজোতে একশোটা তোপ, রাতে ঝাড়বাতির নীচে স্কচ বাবুদের ধুতির কোচর সামলে দুলে দুলে ওঠা।

যদিও ধর্মটা সেদিনও ছিল গরিবের জন্য তোলা, ঠিক আজকের মতো। তবে সেদিনও কিন্তু মণ্ডপ জুড়ে একজনেরই ছবি থাকত, সবার উপরে ব্যোম ভোলা। তার দয়াতেই নাকি ব্রহ্মাণ্ড শীতল হত।


আজ যখন অনুদানের পুজো তখন তো অনুপ্রেরণার একখানি ছবি না রাখলেই নয়, পাছে তিনি রুষ্ট হন।তাই ও ছবি থাকবেই, ক্লাবে ক্লাবে ৫০হাজারি নাচনকোঁদন হবেই, আদালত কিস্যু করতে পারবে না, অ্যাকচুয়াল আর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের ঘটা কিছুতে কমানো যাবে না।

মহল্লায় মহল্লায়, ব্লকে ব্লকে, অফিসে অফিসে, নবান্নের অলিন্দে অলিন্দে, এখন যিনি রাজ করছেন সেই কোটি ৪৩০-এর রাজগুরু থুড়ি ভোটগুরু পিকের দুর্বোধ্য পাঠের সহজ নির্দেশ আছে। 


পুজো হবে, টাকা উড়বে, পুলিশের ঘুম কাড়বে, বোমের মশলা জমবে, ভিড় হবে, কিন্তু করোনা বাড়বে না। আরে বাবা লিস্টি তো ক্লাব থেকেই নবান্নে যাবে, সুতরাং সংক্রমণ তেমন কোথায়? ফুঃ, অনুপ্রেরণা সহায় আছেন। 

এক ডাকসাইটে বলেছেন বাবা পুজো শুরু করেছেন, আমিও করছি। দেখবেন ১০০টা ঢাক বাজবে, নায়িকারা কোমর দোলাবেন, ধুনচি নাচা হবে, রাত কেউ কেউ অন্যভাবে কাটাবে, কোভিডে লোক মরবে বলে তো আর বাপ-ঠাকুরদার সংস্কৃতি বন্ধ করতে পারি না, নিন্দুকেরা যতই বলুক, ডাক্তাররা যতই গলা ফাটাক, আদালত ভয় দেখালেও আপনারা ভয় পাবেন না। অনুপ্রেরণা যখন সহায় আছেন দেখবেন করোনা রোগীর সংখ্যা কিছুতেই বাড়বে না, 

মিলিয়ে নেবেন।