• ১২ কার্তিক ১৪২৭, বুধবার
  • 28 October 2020, Wednesday
পিঠে ব্যাগ, মুখে মাস্ক---- আমরা প্রস্তুত? ছবি: ইন্টারনেট

পিঠে ব্যাগ, মুখে মাস্ক---- আমরা প্রস্তুত?

সন্দীপা বসু

Updated On: 09 Oct 2020 12:01 am

চলছে আনলক পর্ব। ধাপে ধাপে ছন্দে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জনজীবন। ধীরে হলেও স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে দিনকাল। একটি ছোট জীবাণু সারা পৃথিবী জুড়ে সর্বশক্তিমান মানুষকে ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে বাঁচতে বাধ্য করল এতগুলো মাস, সেই আতঙ্ক আজও রয়েছে। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নতুন জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়ার একটা চেষ্টা করতেই হচ্ছে। আজ আনলক পাঁচে এসে তোড়জোড় চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি খুলে দেওয়ার। করোনা আবহে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথাটি মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে স্কুলের জন্য বিশেষ আচরণবিধি। মার্চের শেষের দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলি অদূর ভবিষ্যতে আবারও মুখরিত হতে চলেছে পড়ুয়াদের কলতানে। প্রাথমিকভাবে ভিডিও চ্যাটের উত্তেজনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর জানলার কাছে করুণ মুখে বসে থাকা কচি মুখগুলি ফিরে পেতে চলেছে তাদের অভ্যস্ত জীবন।

ইতিমধ্যেই ক্ষতি হয়েছে অনেক। অনলাইন ক্লাস আজকের দিনে স্বাভাবিক হলেও সেটি যে কোনোভাবেই ক্লাসরুমের লেখাপড়ার জায়গা নিতে পারে না, ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে সেই বিষয়টি। পড়ুয়াদের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে কমে গিয়েছে পড়ার ইচ্ছে এবং মনোযোগ। যে বয়সে নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে নেমে খেলার কথা, বাইরের জগতে মেলামেশা করার কথা, প্রতিদিন জগতকে নতুন করে আবিষ্কার করার কথা সেই বয়সে সুদীর্ঘ সময় তারা বন্দি হয়ে আছে চার দেওয়ালের মধ্যে। অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতি অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের। ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্তঃসারশূন্যতা আজ স্পষ্ট। স্বাভাবিক সামাজিক মেলামেশার অভাবে দেখা দিচ্ছে বেশ কিছু জটিল মানসিক সমস্যা।

এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন আগের খবর, তামিলনাড়ুর একটি কিশোর শুধুমাত্র স্কুলের অনলাইন ক্লাস করবে বলে মোবাইল চুরি করেছে। তার পরিবারের সামর্থ্য ছিল না স্মার্ট ফোন কেনার। চুরি ধরা পড়ার পর একজন সহৃদয় পুলিশ অফিসার তাকে নতুন একটি মোবাইল কিনে দিয়েছেন। মন ভালো করা এই ঘটনাটি কিন্তু একই সঙ্গে চোখে আঙুল দিয়ে এটাও দেখিয়ে দেয় যে আমাদের দেশে এক বিরাট সংখ্যক মানুষ অনলাইনে পড়াশোনা করতে অপারগ। অর্থাৎ শিক্ষার মতো একটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পড়ুয়াদের এক বিরাট অংশ। এদের মধ্যে অনেককেই লেখাপড়ার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজটা হয়ত খুব সহজ হবে না। সামগ্রিক চিত্রটি দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে রীতিমত চিন্তার। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত স্কুল চালু করা অবিলম্বে প্রয়োজন, সন্দেহ নেই।

এই পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও, এর পরেই একটু থমকে দাঁড়াতে হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ আরো একবার ঊর্ধ্বমুখী। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এই সময় অভিভাবকরা কতটা প্রস্তুত তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে? সরকার থেকে বলা হচ্ছে অতিমারী আবহে বিশেষ আচরণবিধি প্রস্তুত করার কথা। কেমন হবে সেই আচরণবিধি? স্কুলগুলি কি নতুন আচরণবিধি মেনে সুরক্ষিতভাবে ক্লাস শুরু করার জন্য আদৌ প্রস্তুত?

বিশ্বের অন্যান্য যে কোনো দেশের থেকে আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো অনেকটাই ভিন্ন। এখানে সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলির মধ্যে যে বিশাল পরিকাঠামোগত পার্থক্য, সেটি ভরাট করার জায়গা কোথায়? প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি স্কুলে থার্মাল স্ক্যানার থাকবে কি? থাকলেও কতদিন সেটি চালু অবস্থায় থাকবে? স্কুলে ঢোকা বেরোনোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ক্লাস, খেলাধুলো, মিড ডে মিল ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ববিধি এবং মাস্কের ব্যবহার সুনিশ্চিত করার মতো পরিকাঠামো পাওয়া যাবে তো? তারপরেও বাকি থেকে যায় যথেষ্ট পরিমাণে স্যানিটাইজারের সরবরাহ ও ব্যবহার এবং পুরো স্কুলের নিয়মিত স্যানিটাইজেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। ধরে নেওয়া যেতে পারে বেসরকারি স্কুলগুলি এই ব্যাপারে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে। সরকারি স্কুলগুলি নিয়ে কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যায়।